Skip to content
Pariahs' Guild Est. 2021
Default

বাংলাদেশে জুয়ার সাথে gambling addiction treatment

hBy huanggs Pariahs' Guild Editorial

বাংলাদেশে জুয়ার আসক্তি চিকিৎসা: বাস্তবতা, চ্যালেঞ্জ ও সমাধান

বাংলাদেশে জুয়া বা গেম্বলিং আসক্তি একটি ক্রমবর্ধমান জনস্বাস্থ্য ইস্যুতে পরিণত হয়েছে, যার চিকিৎসা ব্যবস্থা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। আইনি জটিলতা, সামাজিক কুসংস্কার এবং সচেতনতার অভাব এই সমস্যা মোকাবিলায় বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে। বাংলাদেশে আনুমানিক ৩-৫% প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠী কোনো না কোনোভাবে জুয়ার সাথে জড়িত, এবং এর মধ্যে প্রায় ১৫-২০% আসক্তিতে ভুগছেন বলে বিশেষজ্ঞরা অনুমান করছেন।

জুয়া আসক্তির চিকিৎসায় বাংলাদেশের প্রধান চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে রয়েছে:

আইনি সীমাবদ্ধতা: বাংলাদেশে জুয়া মূলত অবৈধ হলেও বাংলাদেশ জুয়া এর বিভিন্ন রূপে এটি বিদ্যমান। এই দ্বিধাবিভক্ত অবস্থা চিকিৎসা পরিষেবা বিকাশে বাধা সৃষ্টি করেছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে জুয়া আসক্তির জন্য আলাদা কোনো ওয়ার্ড বা বিশেষায়িত ইউনিট নেই।

সামাজিক সংকোচ: জুয়া আসক্তিকে বাংলাদেশের সমাজে এখনও নৈতিক দুর্বলতা হিসেবে দেখা হয়, যা রোগীদের চিকিৎসা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ৭০% আসক্ত ব্যক্তি লজ্জা এবং সামাজিক অপমানের ভয়ে চিকিৎসা নেন না।

চিকিৎসা পদ্ধতি প্রাপ্যতা সাফল্যের হার খরচ (মাসিক)
কাউন্সেলিং সীমিত (শুধুমাত্র বেসরকারি ক্লিনিক) ৩০-৪০% ৫,০০০-১৫,০০০ টাকা
ওষুধ চিকিৎসা অত্যন্ত সীমিত ২৫-৩৫% ৮,০০০-২০,০০০ টাকা
সাপোর্ট গ্রুপ বিরল ৪০-৫০% বিনামূল্য
রিহ্যাব সেন্টার অতি বিরল ৫০-৬০% ৩০,০০০-১,০০,০০০ টাকা

চিকিৎসা পরিকাঠামোর ঘাটতি: বাংলাদেশে মাদকাসক্তি চিকিৎসার কিছু কেন্দ্র থাকলেও জুয়া আসক্তির জন্য বিশেষায়িত কোনো রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার নেই। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের সংখ্যাও অপ্রতুল – পুরো দেশে মাত্র ৩০০-এর মতো মনোরোগ বিশেষজ্ঞ আছেন, যাদের মধ্যে জুয়া আসক্তি বিশেষজ্ঞ আরও কম।

বাংলাদেশে জুয়া আসক্তির চিকিৎসা পদ্ধতি:

বর্তমানে বাংলাদেশে যে সীমিত চিকিৎসা পরিষেবা পাওয়া যায়:

মনস্তাত্ত্বিক কাউন্সেলিং: কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT) সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে পরিচিত। ঢাকা এবং বড় শহরগুলোর কিছু বেসরকারি ক্লিনিকে এই সেবা পাওয়া যায়। সপ্তাহে ২-৩ সেশন নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়, যার প্রতিটি সেশনের খরচ ১,৫০০-৩,০০০ টাকা।

ওষুধ চিকিৎসা: সেলেক্টিভ সেরোটোনিন রিআপটেক ইনহিবিটর (SSRI) জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হয়, তবে বাংলাদেশে এগুলো জুয়া আসক্তির জন্য বিশেষভাবে অনুমোদিত নয়। মনোরোগ বিশেষজ্ঞরা অন্যান্য মানসিক সমস্যার সাথে সম্পর্কিত হলে এগুলো প্রেসক্রাইব করেন।

স্ব-সহায়ক গ্রুপ: গেম্বলার্স অ্যানোনিমাসের মতো সংস্থার বাংলাদেশে কোনো শাখা নেই, তবে সামাজিক মাধ্যমভিত্তিক কিছু ছোট গ্রুপ গড়ে উঠেছে। এগুলোতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত – পুরো দেশে মাত্র ২০০-৩০০ সদস্য রয়েছেন বলে জানা যায়।

পরিবার-ভিত্তিক হস্তক্ষেপ: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে পরিবার-কেন্দ্রিক চিকিৎসা। গবেষণায় দেখা গেছে, পরিবারের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণে চিকিৎসার সাফল্যের হার ৫০% বৃদ্ধি পায়।

জুয়া আসক্তির অর্থনৈতিক প্রভাব:

ক্ষেত্র বার্ষিক ক্ষতি (আনুমানিক) মন্তব্য
ব্যক্তিগত ঋণ ৫০০-১,০০০ কোটি টাকা অনানুষ্ঠানিক ঋণ সহ
পারিবারিক সংকট পরিমাপযোগ্য নয় বিবাহবিচ্ছেদ, পারিবারিক সহিংসতা
উৎপাদনশীলতা হার ২০০-৩০০ কোটি টাকা কর্মঘণ্টা হারানোর মাধ্যমে
মানসিক স্বাস্থ্য চিকিৎসা খরচ ৫০-৮০ কোটি টাকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ খরচ

প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা: বাংলাদেশে জুয়া আসক্তি প্রতিরোধে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সচেতনতার অভাব। স্কুল-কলেজ পর্যায়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, মিডিয়া কভারেজ এবং কমিউনিটি ভিত্তিক শিক্ষা কার্যক্রম জরুরি। কিছু এনজিও এই ক্ষেত্রে কাজ শুরু করলেও তাদের তহরিল এবং প্রভাব সীমিত।

আইন ও নীতির প্রয়োজনীয়তা: জুয়া আসক্তিকে সরকারি পর্যায়ে স্বীকৃতি দেওয়া এবং জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। মাদকাসক্তি চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে জুয়া আসক্তির জন্য আলাদা ইউনিট চালু করা যেতে পারে। বীমা কোম্পানিগুলোর জন্য মানসিক স্বাস্থ্য কভারেজে জুয়া আসক্তি চিকিৎসাকে অন্তর্ভুক্ত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন।

প্রযুক্তি ভিত্তিক সমাধান: বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে মোবাইল অ্যাপভিত্তিক কাউন্সেলিং সেবা কার্যকর হতে পারে। অনলাইন কাউন্সেলিং প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা যায়, যেখানে গোপনীয়তা বজায় রেখে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব। টেলিমেডিসিন সেবার মাধ্যমে গ্রামাঞ্চলের রোগীদের কাছে সেবা পৌঁছে দেওয়া যেতে পারে।

চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ: বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোর কারিকুলামে জুয়া আসক্তি সম্পর্কিত অধ্যায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। মনোরোগ বিশেষজ্ঞদের জন্য বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। প্রাইমারি হেলথ কেয়ার কর্মীদের মৌলিক প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে যাতে তারা প্রাথমিকভাবে শনাক্ত করতে পারেন।

সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন: জুয়া আসক্তিকে নৈতিক ব্যর্থতার পরিবর্তে একটি মেডিকেল কন্ডিশন হিসেবে দেখা শেখানো প্রয়োজন। মিডিয়া, ধর্মীয় নেতা এবং কমিউনিটি লিডারদের মাধ্যমে ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া যেতে পারে। সফল চিকিৎসার কেস স্টাডি প্রচার করে সাধারণ মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা সম্ভব।

বাংলাদেশে জুয়া আসক্তি চিকিৎসা ব্যবস্থা উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব, গবেষণা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। মানসিক স্বাস্থ্য সেবাকে সাধারণ স্বাস্থ্য সেবার সাথে একীভূত করলে এই সমস্যা মোকাবিলা সহজ হবে। কমিউনিটি ভিত্তিক মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে স্থানীয় সরকার institutionsকেও এগিয়ে আসতে হবে।

About the author
h

huanggs

Member · Pariahs' Guild

Operator-turned-correspondent writing from the Guild's editorial desk. Dispatches only — no fluff, no syndication, no press releases rewritten as thought leadership.

Continue the conversation

The Charter is open. The door is not.

Est. March 2021 · Austin, Texas · Volume IV · Filed under Pariahs' Guild